আরো নয়টি পণ্যের দাম বাড়বে, শিগগিরি ঘোষণা আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিজয় বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২২, শনিবার
আরো নয়টি পণ্যের দাম বাড়বে, শিগগিরি ঘোষণা আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের তালিকা করে দেবে সরকার। পণ্যের দাম নির্ধারণে ১৫ দিন অতিক্রম হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে দামের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ডিমের বাজারের অস্থিরতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী জানান, মুরগির খাদ্য, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য দাম বিবেচনায় রেখে ডিমের দাম যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করে দেবে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া খাদ্যপণ্য, তেল ও স্টিলসহ আরও বেশ কিছু পণ্যের দাম নির্ধারণ হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে, চাল, আটা, ময়দা, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি, মসুর ডাল, এমএস রড ও সিমেন্ট- এই নয়টি পণ্যের দাম বেঁধে দেবে। এজন্য বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে (বিটিটিসি) দাম নির্ধারণ করতে বলা হয়।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আগে দেশের বাজারে আবারও দাম বেড়েছে বেশ কয়েকটি পণ্যের। এর মধ্যে রয়েছে চাল, ডিম, সবজিসহ আরও কয়েকটি পণ্য। যে ডিম গত মাসে ক্রেতাদের নাজেহাল করে ছেড়েছে তার দাম আবারও বেড়েছে। শুক্রবার খুচরা বাজারে ডজন প্রতি ডিম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মোটা-সরু সব চালের দামই বেড়েছে কেজিতে ২-৩ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৫০-৫২ টাকা ও বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়।

কয়েকদিন সবজির দাম কিছুটা কম ছিল। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার থেকে বেড়েছে দাম। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। এজন্য না কি পাইকারি বাজার থেকে মোটামুটি সব সবজি ৫-১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। আর তাই শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন আজিজ মিয়া।

শুধু সবজি নয়, বাজারে দেখা গেছে চাল ও ডিমের দামও বেশি। মোটা-সরু সব চালের দামই বেড়েছে কেজিতে ২-৩ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৫০-৫২ টাকা ও বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। অথচ এর আগে প্রতি কেজি গুটি স্বর্ণা ৪৮-৫০ টাকা ও বিআর-২৮ এর দাম ছিল ৫৮-৬০ টাকা।

এছাড়া আগের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট ও নাজিরশাইল। এসব চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০-৮৪ টাকায়।

মেরুল বাড্ডার চাল ব্যবসায়ী হালিম চৌধুরী বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়েছে। এখন চালের সিজন (মৌসুম) শেষ। চাল আমদানি হলেও বাজারে সেগুলো আসছে না। এজন্য দাম বাড়তি।

তিনি আরও বলেন, মিল পর্যায়ে বস্তাপ্রতি চালের দাম ১০০-১৫০ টাকার মতো বেড়েছে। অগ্রিম টাকা দিয়েও মিলছে না চাহিদামতো চাল। মোকামে যে পরিমাণ চালের অর্ডার দেওয়া হচ্ছে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে বাজারে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। তিনদিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে ডজনপ্রতি ডিম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে অস্থিতিশীল ছিল ডিমের বাজার। সে সময় ডিমের ডজন ১৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর আগে দেশে কখনো ডিমের দামের এতটা বৃদ্ধি দেখা যায়নি। এখন আবার সেই পথে হাঁটছে পণ্যটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খুচরায় প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ডজন নিলে ১৪৫-১৫০ টাকা। যদিও কিছু কিছু বাজারে ডজনে ৫-১০ টাকা কম নিতে দেখা গেছে। তবে সে সংখ্যা খুব কম।

রামপুরা বাজারের ডিম বিক্রেতা ইয়াছিন হোসেন বলেন, বুধবার থেকে ডিমের দাম হুট করে বেড়েছে। তার আগেও দুদিন বেড়েছে দাম। তবে সেটা ৫-৭ টাকা। শেষ বৃহস্পতিবার সকালে পাইকারিতে ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় ঠেকেছে।

তিনি বলেন, পাইকারিতে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে ১১ টাকা ৭০ পয়সা। যা অন্যান্য খরচ মিলে এখন সাড়ে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ডিমের সরবরাহ কম। সেজন্য দাম বেড়েছে।

এদিকে মুদি পণ্যের দাম নতুন করে বাড়েনি বা কমেনি। আগের চড়া দামেই আটকে আছে। শুধু খুচরায় পাম তেলের দাম ৫ টাকা কমে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত অন্য কোনো ভোজ্যতেলের দাম কমেনি।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 89
    Shares