ওরা দু বোন কচুর লতি বিক্রি করে

বিজয় বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৮, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার
ওরা দু বোন কচুর লতি বিক্রি করে

ত্রাণ বিতরণের লাইন থেকে দূরে দাঁড়িয়েছিলো।

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক টিমের রেজাউল ভাই এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ত্রাণ নিবে কিনা?

জানালো, তারা ছোট, লাইনে দাঁড়িয়েছিলো, ধাক্কা খেয়ে ভয়ে সরে এসেছে। বাড়িতে অসুস্থ পিতা বলে দিয়েছেন, ধাক্কাধাক্কিতে না যাওয়ার জন্য, প্রয়োজনে ত্রাণ না নিয়ে চলে আসার জন্য।

আমরা দেখলাম হাতে পলিথিনের প্যাকেটে কচুর লতি। জানলাম, ওগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে যা পাবে তা দিয়ে খাবার কিনে ফিরবে দু বোন।

জিজ্ঞেস করলাম, কত টাকা দিলে কচুর লতি খুশিমনে বিক্রি করবে?
জানালো, পঞ্চাশ টাকা হলে তারা খুশি।

আমরা বললাম, যদি পঁচিশ কেজি চালের বস্তা দেই, খুশি হবে?
আনন্দে লাফিয়ে উঠলো ছোটো বোন।

বললো, সত্যি বলছেন তো? আমাদের নাম তো তালিকায় নেই।

আমরা অবাক হলাম, এত ছোট্ট মেয়ে কিভাবে তালিকা, ত্রাণ এসব বুঝতে পারে! অভাবের সংসারে বাচ্চারা অনেক কিছুই বুঝে যায়।

ট্রাক থেকে এক বস্তা চাল এনে যখন বললাম, এটা তোমাদের জন্য। বড়বোন আনন্দে কেঁদে ফেললো। চোখ বেয়ে টপটপ করে ঝরতে লাগলো পানির ফোটা।

এবার সমস্যা হলো তাদের বাড়ি এখান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে৷ এত ছোট্ট দুটি বাচ্চা মেয়ে এই বস্তা নিয়ে যাবে কিভাবে?

অগত্যা আমাদের স্থানীয় সহযোগী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলওয়ার ভাইয়ের গাড়িতে তুলে ওদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। গাড়িতে উঠার পর বললাম, চোখের পানি মুছে একটু হাসো দেখি।

হাসলো দুজন। মনে হলো এক টুকরো জান্নাত যেনো নেমে এসেছে পৃথিবীতে।

ওরা চলে গেছে। আমি কল্পনায় দেখছি, সামান্য এক বস্তা চাল একটা ফ্যামিলিতে আজ আনন্দের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।

—লিখেছেন সিলেটে বন্যা পুনর্বাসন কাজে স্বেচ্ছায় সেবারত মাওলানা সাইমুম সাদী

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 11
    Shares