যে জীবন মরীচিকার

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৯, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার
<strong>যে জীবন মরীচিকার</strong>

সাওদা সিদ্দিকা নূরঃ দেখুন না চারিদিকে কতো পানি ছিল। অথচ সাথে সাথে আগুন নেভানোর জন্য কোনো উপায় ছিল না। কেউ কি কল্পনা করেছিল যে পানির ওপরে ভাসা লঞ্চে আগুন লাগবে? আর মুহূর্তেই সেই আগুন পুরো লঞ্চ ভস্ম করে দিবে?

লঞ্চের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান কেবিন। অথচ আগুন লাগার পর সেই কেবিনই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। যারা লঞ্চের বাহিরে ছিল, তারা তো অনেকে লাফিয়ে পানিতে পড়েছে। কিন্তু কেবিনের যাত্রীরা যখন আগুন থেকে রক্ষার জন্য কেবিনের দরজা ধাক্কাধাক্কি করছিল, তখন কেবিন খুলছিল না। তাই কেবিনের যাত্রীদের সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

আবার যে পানির ভয়ে মানুষ লঞ্চে যাত্রা করেছিল, জীবন বাঁচানোর জন্য সেই পানিতেই আবার ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কেউ বেঁচে ফিরেছে, আবার কেউ সেই পানিতেই ডুবে মারা গিয়েছে।

খবরে যখন দেখছিলাম নদীর ভেতর আস্ত একটা লঞ্চ দাউদাউ করে জ্বলছে, জীবন রক্ষাকারী শতশত লাইফ জ্যাকেট, বোট পুরে যাচ্ছে, কোনো ভবেই মানুষ নিজেদের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারছে না, তীরে বসে এই দৃশ্য দেখে মানুষ হু হু করে কাঁদছে, তখন শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছিলো। ‘কার দেয়া জীবন নিয়ে এত অহংকার করি?’

যারা ঢাকা টু বরিশাল সফর করেছেন, তারা নিশ্চয় জানেন এই লঞ্চগুলো কতটা আলিশান ভাবে তৈরী করা। দো’তলায় ওঠার সিঁড়িতে লাল গালিচার মতো কার্পেট বসানো। কেবিনের জানালায় থাই গ্লাস। কেবিনের ভেতর কী নেই? ফ্যান, এসি, এলইডি টিভি, পোশাক রাখার জন্য উন্নতমানের হ্যাঙ্গার, ছোটোখাটো ওয়ারড্রব, অনেক লঞ্চে ড্রেসিং টেবিলও আছে, একটা সুন্দর আয়না, উন্নতমানের আরামদায়ক তোশক, শীতের দিনে সুন্দর লেপ সহ আরো অনেক সুবিধা। এককথায় ছোটোখাটো একটা আলিশান হোটেল। আর ভিআইপি কেবিনের কথা না-ই বললাম। যখন রাত হয় তখন লাল, নীল, সবুজ বাতির রঙে পুরো লঞ্চ বিয়ে বাড়ি হয়ে ওঠে। রাতের বেলা নদীর বুক চিড়ে এমন একটা সুশোভিত লঞ্চ চলে যেতে দেখলে যে কারো মন ভালো হয়ে যায়। অথচ সেই লঞ্চটার দিকে তাকালে এখন একটা ধ্বংসস্তুপ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। পানির ওপর ভস্ম হওয়া একটা বিরাট লঞ্চ! আশ্চর্য লাগে না?

টিভি ও ফেইসবুক এখন ভাসছে নিহতদের স্বজনদের কান্নায়। কোনো কোনো টিভি চ্যানেল লাইভ করে নিজেদের ভিউস বাড়াচ্ছে। অথচ একটা বিষয় কারো মাথায় আসছে না যে, এত বড় ঘটনায় আল্লাহর নিদর্শন কোথায়? পানির ওপর হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে কি আল্লাহর প্রবল ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে না? একটা বারও মনে হয় না যে আল্লাহ চাইলে যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় আমাদের ধ্বংস করে দিতে পারেন?

ডানে-বামে, উপরে-নিচে সব জায়গায়ও যদি আমরা নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দেই, তবেও কাজ হবে না যদি একবার আল্লাহ আমাদের পাকড়াও করেন। এতকিছু জানার পরও আমাদের এত অহংকার, এত ক্রোধ, এত দুনিয়ামুখিতা কোথা থেকে আসে? কীভাবে আল্লাহর দেয়া জীবন তাঁরই অবাধ্যতায় কাটাই?

বিজয় বাংলা/এনএ/২৯/১২/২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 2
    Shares