আল্লাহর সাথে কথা বলতে শিখুন

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৩, অক্টোবর, ২০২১, শনিবার
<strong>আল্লাহর সাথে কথা বলতে শিখুন</strong>

আরিফ আজাদঃ এটা ঠিক যে— দুয়া করার প্রবণতা আমাদের মাঝে অনেক কম। জীবনের অনেক জটিল-কঠিন সময়েও আমরা আল্লাহর কাছে কেঁদেকুটে ফরিয়াদ করতে পারি না। চোখে জল না আসুক, অন্তত অন্ধকারে দুই হাত তুলে বিনীত গলায় সমস্যার কথা তুলে ধরার অভ্যাসটাও আমাদের মাঝে গড়ে উঠেনি৷

ভাবছেন, কীভাবে আল্লাহর কাছে চাইবার, দুয়া করবার অভ্যাস গড়া যায়, তাই তো?

আপনাকে আমি একটা কৌশল শিখিয়ে দিতে পারি। আজ থেকে জীবনের ছোট ছোট অভিযোগ-অনুযোগ, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিগুলো আল্লাহকে বলতে শুরু করুন৷

দোকানে গেলেন এবং দোকানদার আপনার সাথে কর্কশ গলায় কথা বলেছে?

দোকান থেকে ফিরতে ফিরতে আল্লাহকে বলুন, ‘ইয়া আল্লাহ! দোকানি আমার সাথে কর্কশ গলায় কথা বলেছে। আমার একটু কষ্ট লেগেছে, কিন্তু আমি ধৈর্য ধরেছি৷ তার সাথে আমি খারাপ আচরণ করিনি। এর প্রতিদান কি আপনি আমাকে দিবেন না? অবশ্যই দিবেন। আপনি তো কোন ভালো কাজকেই বিনিময়-বিহীন রাখেন না। আমি আপনার উত্তম বিনিময়ের আশায় ধৈর্য ধরে থাকলাম’।

বাসে হেল্পার আপনার সাথে অহেতুক বাক-বিতণ্ডায় জড়াতে চেয়েছে?

শান্ত হয়ে সিটে বসুন আর মনে মনে বলুন, ‘আমার রব, আপনি তো জানেন আমার কোন দোষ ছিলো না এই ঘটনায়, তা-ও এই লোক আমাকে দোষী বানাতে চাইলো আর আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিলো৷ আমি জানি আমি সঠিক ছিলাম, তা-ও আমি তার সাথে তর্কে জড়াইনি এটা ভেবে যে, আমাদের নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সঠিক হওয়ার পরও যে ব্যক্তি তর্ক না করে চুপ থাকে, জান্নাতে তার জন্য আল্লাহ একটা ঘর তৈরি করে দেবেন। আমি আপনার কাছ থেকে একটা ঘর প্রাপ্তির আশায় তর্ক থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছি’।

সু-স্বাদু কোন খাবার খেয়েছেন? আল্লাহকে সাথে সাথে বলুন,

‘মালিক, অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন উত্তম খাবারের জন্যে। তবে, জান্নাতের উত্তম খাবার খাওয়ার জন্যে সর্বদা উদগ্রীব থাকি। সেটা থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না দয়া করে’।

এভাবে ছোট ছোট ব্যাপারগুলোতে আল্লাহর সাথে কথা বলতে শিখুন, দেখবেন এই অভ্যাস বড় বড় ব্যাপারগুলোতেও আপনাকে তাঁর কাছে টেনে নিয়ে যাবে।

বিজয় বাংলা/এনএ/২৩/১০/২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 11
    Shares