খেলাপি ঋণে ভারাক্রান্ত ২২ ব্যাংকের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি – ছবি : সংগৃহীত

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, জানুয়ারি, ২০২২, শুক্রবার
<strong>খেলাপি ঋণে ভারাক্রান্ত ২২ ব্যাংকের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি – ছবি : সংগৃহীত</strong>

বিজয় বাংলা অনলাইন | সীমাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ২২টি ব্যাংককে নীতিসহায়তা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য শাখা খোলা এবং বৈদেশিক লেনদেন বাড়াতে এডি শাখা খোলার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। আদায় বাড়িয়ে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩ শতাংশের বেশি হলেই ওই ব্যাংককে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। আর ঝুঁকিপূর্ণ হলে আন্তর্জাতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মান কমে যায়। আন্তর্জাতিক লেনদেনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের মান নির্ণয় করা হয় ৫ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণধারী ব্যাংকগুলোর। অর্থাৎ ৫ শতাংশ বা এর বেশি হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এমন ২২টি ব্যাংক রয়েছে যাদের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে সরকারি আটটি। এসব ব্যাংকের একটির খেলাপি ঋণ ৫০ শতাংশের ওপরে। বাকি চারটির মধ্যে তিনটি বিদেশী ও ১১টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ঝুঁকি নির্ণয়ের মানদণ্ডে আলোচ্য ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। আদায় বাড়িয়ে খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে আলোচ্য ব্যাংকগুলোকে নীতিসহায়তা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেশি থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ ঝুঁকি বেশি এমন ব্যাংকের সাথে বিদেশী ব্যাংকগুলোর লেনদেনে অনীহা থাকে। এ কারণে বিদেশী ব্যাংকগুলোর সাথে লেনদেন করতে হলে ভালো কোনো ব্যাংক ও বিদেশী ব্যাংকের গ্যারান্টি দিতে হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাড়তি কমিশন গুনতে হয়। এ কমিশন দেয়া হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। এ কারণে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এ থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। যেমন, ব্যাংকগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন শাখা কম দেয়া হচ্ছে। বৈদেশিক লেনদেন করতে এডি শাখার (অথরাইজড ডিলার) প্রয়োজন হয়। আর এডি শাখার লাইসেন্স দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। খেলাপি ঋণ বেশি এমন ব্যাংকগুলোর এডি শাখার লাইসেন্স প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চালু করা ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় সুবিধা পেতে হলে যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের কম তাদের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ জামানত এবং ৫ শতাংশের বেশি থাকলে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ জামানত রাখতে হবে। অর্থাৎ বেশি খেলাপি ঋণ থাকলে বেশি জামানত রাখতে হবে।

অপর দিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করে থাকে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বল্পসুদে ব্যাংকগুলোকে তহবিল জোগান দেয়। ব্যাংক আবার গ্রাহকের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি সুদ আদায় করে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করা হয়। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি ওই সব ব্যাংকগুলোর পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বাড়তি সুদ গুনতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এসব পদক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাতে আদায় কার্যক্রম বাড়বে। ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার সক্ষমতা বাড়বে

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 39
    Shares