সরকারি দলকে সমর্থনের জন্য সর্বত্রই প্রচণ্ড চাপ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, সেপ্টেম্বর, ২০২৩, বৃহস্পতিবার
সরকারি দলকে সমর্থনের জন্য সর্বত্রই  প্রচণ্ড চাপ

বাংলাদেশে সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে আধা সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত – সব পেশাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি দলকে সমর্থনের জন্য প্রচণ্ড চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকতে আগ্রহী কর্মীরা।

দেশে বিভিন্ন পেশার সাবেক এবং বর্তমান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এ ধারণা পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, এ কারণেই অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে সরকারি দলের অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে বক্তব্য, বিবৃতি কিংবা কর্মসূচি পালনের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে।

একই অবস্থা তৈরি হয়েছিলো গত মার্চে দৈনিক প্রথম আলোর ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত একটি ফটো কার্ডকে ঘিরেও।

সম্প্রতি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করায় সরকার এবং সরকার সমর্থকদের রোষে পড়েছেন একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

বিশ্লেষকরা বলছেন ক্ষমতাসীন দল বা তাদের অবস্থানকেই সমর্থন করতে হবে- এমন পরিবেশ তৈরিতে ক্ষমতাসীন দলের অনুগতদের নেতৃত্বে গঠিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোই বেশি ভূমিকা রাখছে।

তাদের সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে হেনস্থার শিকার হওয়ার উদাহরণও তৈরি হয়েছে এখন দেশে।

এমনকি প্রথম আলো এবং অধ্যাপক ইউনূস ইস্যুতে কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠন থেকে দেয়া বিবৃতিতে অনুমতি বা কোনো যোগাযোগ ছাড়াও অনেকের নাম ব্যবহারের অভিযোগও এসেছে।

সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বিবিসিকে বলছেন, সবক্ষেত্রেই পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘পেশাজীবী কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা’ এবং তারা নিজেদের সুবিধা লাভের স্বার্থে সরকারি দলের মতো করে কথা বলছেন।

তিনি বলেন, “কিছু ইস্যুতে সবার বিবৃতির ভাষাও অনেকটা একই থাকে। বোঝাই যায়, এগুলো কোথাও তৈরি করে তারপর সবাইকে দেয়া হয়।”

তবে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া অবশ্য বলছেন আওয়ামী লীগের অবস্থানের পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে কাউকে কখনো জোর করা হয়নি।

তিনি বলেছেন, “তবে দেশের বা জনগণের স্বার্থে কেউ কিছু বললে, সেটা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে গেলে তো করার কিছু নেই। বরং প্রতিটি নাগরিক বা সংগঠনের দায়িত্বই তো হলো দেশ বিরোধী চক্রান্ত হলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করা হলে এসব দেশবিরোধী শক্তির উত্থানই হতো না,” ।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বরাবরই অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে কথিত ‘দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ করে আসছেন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন