হিজরী সন: ঈমানী চেতনার উৎস

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২২, জুলাই, ২০২৩, শনিবার
হিজরী সন: ঈমানী চেতনার উৎস

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

হিজরতের চেতনা লালন করে সারা বছর হিজরী সনের আলোকে নিজেদের ঈমান ভিত্তিক জীবনের কার্যক্রম সাজানো একজন মুমিনের দায়িত্ব। রাসুল সাল্লঅহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও প্রিয় সহচর হযরকত আবু বকর সিদ্দীক রাযিআল্লাহু আনহু এবং সাহাবায়ে কেরাম রাযিআল্লাহু আনহুমদের সীরাতের দেখানো পথকে উম্মতের সামনে চির অম্লান ও জাগ্রত করাই হিজরী সনের মূল মাকসাদ। উম্মত যেন তার মঞ্জিল ভুলে না যায়। তার পথ যেন হারিয়ে না ফেলে। তার গন্তব্য যেন ভুলে না বসে। তার মুক্তির ঠিকানা যেন খোঁজে ফিরে এই হিজরতের চেতনায়।

হিজরী সনের হিসাবে যত্নশীল থাকা উম্মাহের জন্য ফরজে কেফায়া। সে দায়িত্ব সম্পাদনে একমাত্র হিজরত ও নুসরতের মাধ্যমে উম্মাহর মাঝে সেতু বন্ধন তৈরি করার দ্বারাই সম্ভব। আগামি পৃথিবীর দাজ্জালী ফিৎনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর রাস্তায় খুরুজের মেহনত করে দাওয়াতের ফেজা কায়েম ও মুমিন বান্দারা মদীনার মতো ঈমানী মাহলে থাকা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। হিজরতের চেতনাকে লালন করেই উম্মাহকে বাঁচতে হবে, জাগতে হবে, জাগাতে হবে। উম্মাহ বির্নিমানে হিজরতের চেতনাকে জীবনের পাথেয় করতে হবে।

দ্বীন প্রতিষ্টার জিহাদে ইমারত ও খেলাফত ভিত্তিক জীবনব্যাবস্থা গড়ে তুলতে হবে। জামাতবদ্ধ জীবনের মন্ত্রে উজ্জেবিত হয়ে হিজরতের মিশনকে বাস্তবায়ন করতে হবে। হযরত হুসাইন (রাঃ)এর আত্মত্যাগের চেতনাবাহী মুহাররাম মাস দিয়ে হিজরী সন শুরু হয়। ইব্রাহীম (আঃ) এর কুরবানির স্মৃতিময় জিলহজ্জ দিয়ে হিজরী সন শেষ হয়। মুহাররাম থেকে নিয়ে জিলহজ্জ পর্যন্ত দ্বিনের জন্য আত্মত্যাগ, জুলুম র্নিযাতন, অপবাদ, গালি আর লাঞ্চনা বঞ্চনার নেয়ামতকে মাথাপেতে নিয়েই নববী মিশন বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে।

হিজরী নববর্ষ ১৪৪৫ এর চাঁদ উদিত হয়েছে গতকাল। আপোষহীন চেতনায় উম্মতের জন্য জান মাল সময় ব্যায় করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রিয় নবীজি (সঃ) মুশরিকদের সাথে দ্বীনের ব্যাপারে আপোষ করেননি বলেই হিজরত করেছেন। তেমনিভাবে হযরত হুসাইন রাযি: ইয়াহজীদদের সাথে আপোষ করেননি বলেই স্বপরিবারে জীবন দিয়েছেন। দ্বীন ধ্বংসের মিশন বাস্তবায়নকারী ও দ্বীনী কাজে বাঁধাদানকারী ব্যাপারে কোনপ্রকার আপোষ করা যাবে না এটি হিজরী সনের আপোষহীন চেতনা। এছাড়া ইমারত ও খেলাফত ভিত্তিক জীবনব্যাবস্থাকে আকেঁড়ে ধরে হুসাইনী চেনার আত্মত্যাগে নিজেদের বলিয়ান করতে হবে। জীবন দিয়ে হলেও দ্বীনের মূলনীতি ও রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথ ও পদ্ধতিকে আকঁড়ে থাকতে হবে।

আজ উম্মতকে রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম এর ত্বরীকা ও সাহাবানীতি -আদর্শ এবং চিন্তা চেতনা, পথ-পদ্ধতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে যুগের ইয়াজিদরা। নানান চটকদার শব্দ আর খোঁড়া যুক্তি দিয়ে পাশ্চাত্য ফর্মূলার আলোকে দ্বীনের মাঝে নানান মতবাদ ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। ইজমায়ে সাহাবার আর্দশ ও মূলনীতির বিরোধিতা করে নতুন মতবাদকে দ্বীন হিসাবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাদের একমাত্র টার্গেট হলো, উম্মতে মুহাম্মদীকে “ما أنا عليه و أصحابي” এর ত্বরীকা থেকে বিচ্যুত করা। তাই ফেতনার সময়ে “ما أنا عليه و أصحابي”কে আঁকড়ে ধরে থাকাই হবে হিজরী সনের একমাত্র শিক্ষা।

হে আল্লাহ! উম্মাহ বির্নিমানে আপোষহীনভাবে দ্বিনের উপর আমাদের অটুট রাখুন, শেষ জামানার ফেতনা থেকে বাঁচতে হিজরত ও নুসরতের মেহনতে আমাদের কবুল করুন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন