উৎফুল্ল সকাল উপভোগের নববি টিপস

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১, এপ্রিল, ২০২২, শুক্রবার
<strong>উৎফুল্ল সকাল উপভোগের নববি টিপস</strong>

আব্দুল্লাহ আল কাফিঃ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিট দেয়। প্রতি গিটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাকো।

এরপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, তাহলে একটি গিট খুলে যায়, এরপরে অজু করলে আরেকটি গিট খুলে যায়, এরপরে সালাত আদায় করলে আরেকটি গিট খুলে যায়।

তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল। অন্যথায় সে সকালে ওঠে কলুষযুক্ত কালিমা ও অলসতা সহকারে।’ [সহিহ বুখারি : ১১৪২; সহিহ মুসলিম : ৭৭৬।]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় এমন সময়ে নির্ধারণ করেছেন, যে সময়গুলোতে আমরা বিভিন্ন রোগ ও উদাসীনতায় কাটিয়ে থাকি। যেমন ফজরের সালাত।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা নিদ্রাশূণ্যতা ও খুব বেশি অলসতা অনুভব করি। এমন সময় আমাদের অলসতা দূর করতে, মস্তিষ্ক ও মানসিকতা প্রফুল্ল ও সতেজ রাখতে প্রকৃতির নির্মল বাতাস ও সূর্যের আলো ভিটামিন ডি হিশেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

আমরা যখন ওজু করে মসজিদে যাই, সকালের শীতল পানি ও বাহিরের সজীব ও নির্মল বাতাসে আমাদের দেহে সতেজতা ফিরে আসে। ক্লান্তি দূর হয়। এরপরে মসজিদে সালাত আদায় করে তাসবিহ, দুরুদ ইত্যাদি পাঠ করে সালাতুল ইশরাক আদায় করে যখন আমরা ঘরে ফিরি, ঊষার এ-ই মনোরম স্বচ্ছ পরিবেশে নবাগত মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা সূর্যের মিষ্টি আলোয় তখন আমরা উৎফুল্লতা, নিশ্চিন্ততা ও অন্যরকম আবেগ, অনুভূতি ও আত্মবিশ্বাস অনুভব করি।

সকালের এ-ই উৎফুল্ল মন ও সতেজ মস্তিষ্ক সারাদিনের উদযাপনে অনেক বড়ো প্রভাব ফেলে। ফজরের সালাত আদায়কারীরা কর্মঠ ও আন্তরিক হয়ে কাজ করে। তাদের অন্তরে কাজের উদ্দাম ও স্পৃহা অন্যদের তুলনায় গড়ানুপাতে বেশি থাকে।

বস্তুত সৃষ্টির জন্য স্রষ্টার সকল বিধানই সুস্বাস্থ্যকর ও কল্যাণময়।

অতএব, আজ থেকে শপথ গ্রহণ করি—ফজর আর করব না কাযা। ঠিক সময় উঠব ঘুম থেকে। রাতে আগে আগেই ঘুমিয়ে পড়ব। আগে ঘুম আগে ওঠা—এটাই নববি ও সালাফদের সুন্নাহ। সুস্বাস্থ্যসম্মত।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদের তৌফিক দান করুন।

বিজয় বাংলা/এনএ/১/৪/২২

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 47
    Shares