খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা শাখাওয়াত হোসাইন এর বর্ণাট্য জীবনী

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৪, আগস্ট, ২০২৩, বৃহস্পতিবার
<strong>খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আল্লামা শাখাওয়াত হোসাইন এর বর্ণাট্য জীবনী</strong>

বিজয় বাংলা অনলাইন ★ জন্ম ও পরিচয়ঃ-
সাখাওয়াত হোসাইন,পিতা শেখ আকরাম হোসেন। খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া গ্রামে ১৯৫৮ সালে এক দ্বীনদার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তার পিতা
প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি তাঁর পিতার ছেলে মেয়ের মধ্যে জৈষ্ঠ্য সন্তান।

★ শৈশবকাল ও স্কুলশিক্ষা জীবনঃ—-

সাখাওয়াত হোসাইনের শৈশবকাল কেঁটেছে তাঁর পিতা-মাতার কাছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা তাঁর গ্রামের স্কুলেই সমাপ্ত হয়।
স্কুল জীবন থেকেই তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী হিসাবে গড়ে উঠেন, স্কুলের প্রতিটা ক্লাসেই ফাস্টবয় এবং ক্লাস ক্যাপটেন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র জীবন থেকেই তার নেতৃত্বের গুনাবলি
পরিলক্ষিত হয়।

★ উচ্চশিক্ষা অর্জনঃ—-
সাখাওয়াত হোসাইন তার পিতা, মাতার স্বপ্ন অনুযায়ী দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে খুলনার দারুল উলুম মাদ্রাসায় (১৯৭১-৭৪) সাল অধ্যায়ন করেন।
পরবর্তীতে চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল মাদ্রাসায়
(১৯৭৫ -৭৭) সাল অধ্যয়ন করেন।
তারপর ১৯৭৮ সালে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তি হন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশের তাবলীগ জামায়াতের আমীর আল্লামা আব্দুল আজিজ ( রহঃ) পরামর্শে ভারতের গাংগুহ মাদ্রাসায় (১৯৭৯ -৮৩) সাল পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।
সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে জামেয়া ইসলামীয়া মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করার মধ্য দিয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করেন।

★ দাওয়াতে তাবলীগে মেহনতঃ—-

১৯৭২ সালে সাখাওয়াত হোসাইন, মুফতি মানসূরুল হক এবং মাওলানা আবুল কাশেম শরিফ সহ চিল্লায় বের হোন।
১৯৭৫ সালে তাবলীগের আমীর আল্লামা আব্দুল আজিজ (রহঃ) মেখল মাদ্রাসায় সফরে আসেন।
উনার সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে, ছুটির সময়ে ছাত্রদের খুরুজে বের করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হন,
পরবর্তীতে তিনি সহ তাঁর সাথী মাওলানা আবুল
কাশেম সাহেবকে নিয়ে মাওলানা আজিজুল্লাহ (বড় হুজুরের) সাথে আলোচনা করে সর্বপ্রথম মেখল মাদ্রাসায় তাবলীগের কাজ শুরু করেন।
(১৯৭৯ – ৮৪) সাল ভারতের গাংগুহ মাদ্রাসার পড়াশোনার পাশাপাশি তাবলীগের জিম্মাদার হয়ে কাজ করতে থাকেন।
সাখাওয়াত হোসাইন ১৯৭২ সাল থেকে পড়াশুনা শেষ হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন মাদ্রাসায় তাবলীগ জামায়াতের জিম্মাদার হয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সাথে জড়িত থাকেন।

★ সন্মানিত উস্তাদবৃন্দঃ—-

মুফতি আজম ফয়জুল্লাহ (রহঃ) (মেখল)
শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল আজিজ (রহঃ) (হাটহাজারি)
শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহঃ),(হাটহাজারী)
আল্লামা আবুল হাসান রহঃ (হাটহাজারী,আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহঃ এর পিতা)
মুফতি নূর আহমাদ রহঃ (হাটহাজারী)
আল্লামা শেখ আহমদ সাহেব (হাটহাজারী)
আল্লামা আজিজুল্লাহ রহঃ (মুহতামিম মেখল)
মুফতী সাইফুল ইসলাম রহঃ (মেখল)
আল্লামা শরীফ আহমদ রহঃ (গাংগুহ)
আল্লামা ওসিম আহমদ (গাংগুহ)
আল্লামা ফইয়াজ আহমদ রহঃ (গাংগুহ)
আল্লামা আনোওয়ার শাহ (গাংগুহ)
মাওলানা ইসহাক রহঃ (মোহতামিম দারুল উলুম খুলনা)
মাওলানা সামছুল হক রহঃ (খুলনা)
মাওলানা রফিকুর রহমান (খুলনা) প্রমুখ। এছাড়া ও বহু হাদিস বিশারদের সান্নিধ্য লাভ করেন।

★ ইসলাহী তায়াল্লুকঃ—-

মুফতীয়ে আজম ফয়জুল্লাহ (রহ:) এর কাছে শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে যান। এবং ১৯৭৬ সালে মুফতীয়ে আজম ফয়জুল্লাহ (রহ:) এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেন পরিবর্তীতে
আল্লামা হাকিম আকতার (রহ:)
এর বাইয়াত গ্রহন করেন। এবং পরবর্তীতে আল্লামা জুবায়ের আহমদ রহঃ এর কাছে বাইয়াত গ্রহন করেন সাখাওয়াত হোসাইন।
১৯৭৮ সালে সাখাওয়াত হোসাইন গাংগুহ মাদ্রাসায় পড়াকালীন রমজানের ছুটিতে দেওবন্দ মাদ্রাসায় যান,
সেখানে হযরত শায়খুল হাদীস আল্লামা আসআদ মাদানী (রহ:) এর খানকায় ইসলাহী তায়াল্লুকের জন্য পুরা রমজান মাস ইতেকাফ করেন।
১৯৮১ সালে শায়খুল হাদীস আল্লামা জাকারিয়া (রহ:) মদিনা থেকে ভারতে এসে প্রথমে গাংগুহুতে আসেন,
হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাংগুহীর কবর জিয়ারত করে সাহারানপুর যান এবং সাহরান পুর মসজিদে এতেকাফে বসেন। তার সানিধ্য লাভের জন্য হিন্দুস্থানের প্রসিদ্ধ শতশত উলামায়ে কেরাম ও এতেকাফে বসেন।

শায়খুল হাদীস আল্লামা জাকারিয়া (রহ:) এর
সাথে ও বাংলাদেশের আমীর আল্লামা আব্দুল আজীজ (রহ:) এতেকাফে ছিলেন, তিনি শায়খুল হাদীস আল্লামা যাকারিয়া (রহ:) কাছে থেকে খেলাফত প্রাপ্ত হন এবং ঐ মহতী মজলিসে মুরুব্বীদের সাথে সাখাওয়াত হোসাইন ও ছিলেন।

★ কর্মস্থানে যোগদানঃ

মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন কর্মসংস্থানের শুরুতেই ১৯৮৭ সালে খুলনার খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসায় যোগদান করেন, পরবর্তীতে মোহতামীম হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে রূপসার অচিনতলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা মোহতামিম হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কাজদিয়া খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮৭ সালে খুলনার ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসাবে যোগদান করেন এবং অদ্যবধি ৩৬ বছর ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় রয়েছেন।

★ রাজনৈতিক জীবনঃ

১৯৮৩ সালে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন দেশে ফিরে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের সোহবাত লাভ করেন, এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনে যোগদান করেন।
পর্যায়ক্রমে উপজেলা থেকে জেলা পরবর্তীতে বিভাগীয় গভর্নর এবং কেন্দ্র পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাফেজ্জী হুজুর (রহ:) এর সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জেলায় জেলায় সফর করেন।
এবং মাদ্রাসায়ে নূরিয়ায় শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ:) এর উপস্থিতিতে শেষ মজলিসে শুরার মিটিংয়ে ও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আত্নপ্রকাশ :

১৯৮৯ সালে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক
(রহ:), মাওলানা আব্দুল গাফফার (রহ:),এবং ডঃ আহমাদ আবদুল কাদের সাহেবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গঠন হয়।
হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকালের পর আল্লামা আহমাদুল্লাহ আশরাফ (রহ:) যখন আমীর হন তখন খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, শাসনতন্ত্র আন্দোলনকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে বিশেষ করে গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায়, এবং খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসায় প্রত্যেক বৈঠক আয়োজনে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন মুরব্বিদের সাথে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেন।

ইসলামি ঐক্যজোট গঠনে ভূমিকা ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ:

১৯৯০ সালে আরজাবাদ মাদ্রাসায় ইসলামি ঐক্যজোট গঠন হয়। সেখানে আল্লামা আব্দুল মান্নান (কাশিয়ানী হুজুর) রহ: এর নেতৃত্বে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন সহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে একটা প্রতিনিধিদল আরজাবাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে “মিনার মার্কা” প্রতীক” নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে খুলনা- ৪ আসনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য ১৯৮৮সালে কাজী জাফর আহমেদ সাহেব জাতীয় পার্টির নমিনেশনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বলেন।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ও কাজী জাফর আহমেদ সাহেব সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মহাজোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন।

এতদাসত্বেও তিনি সত্য ন্যায়ের উপর অটল ছিলেন এবং কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে আদর্শ পরিপন্থি কোনো কর্মকান্ডে জড়িত হননি এমনকি দুনিয়ার কোন মোহ তাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান :

১৯৯৫ সালে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহঃ এর অনুরোধে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন।
বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করে, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সহ- সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেন।
ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনকে গতিশীল করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ:) সাহেবের সাথে সফর করেন।

খেলাফত মজলিস গঠনে ভূমিকা :

২০০৫ সালে যখন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়, এবং দুটি ভাগে বিভক্ত হয়।
তখন মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, শায়খুল হাদীস আল্লামা শওকাত আলী (রহ:), ও জনাব সিরাজুল হককে সঙ্গে নিয়ে উভয়দিকে বারবার আলোচনা করে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা করেন।

শত প্রচেষ্টা সত্বেও সফল না হওয়ায় পরবর্তীতে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন,শায়খুল হাদীস আল্লামা শওকত আলী (রহ:), মাওলানা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী (রহ:) খেলাফত মজলিসকে নিয়ে অগ্রসর হন, এবং সংগঠনকে দাড় করানোর চ্যালেন্জ গ্রহণ করেন এবং খেলাফত মজলিসের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক দাঃ বাঃ মহাসচিব ড.আহমদ আবদুল কাদের এর সাথে খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন।

★৪ দলীয় জোট গঠনে ভূমিকাঃ-

২০০০ সালে ৪ দলীয় জোট গঠিত হয়।
মূল রূপকার বা জোট গঠনে ভূমিকা পালন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ।

মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন দীর্ঘ ১ মাস ১৩ দিন কাজী জাফর সাহেবের বাসায় অবস্থান করেন।

সর্বপ্রথম কাজী জাফর আহমদ সাহেবের পরামর্শে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।
মুফতি ফজজুল হক আমিনী (রহ:) কে নিয়ে কাজী জাফর সাহেবের বাসায় বৈঠকে মিলিত হন।

পরিবর্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দের কে নিয়ে কাজী জাফর সাহেবের সাথে বারংবার বৈঠক করেন।
যার ফলশ্রুতিতে ৪ দলীয় জোটে ইসলামী ঐক্যজোট সম্পৃক্ত হয়।

★মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন দীর্ঘ ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী।

★ইসলাম বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা ও
অংশ গ্রহণঃ

বিভিন্ন সময়ে দেশে ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হলে দেশে যে আন্দোলন গড়ে উঠে,
যেমন
সালমান রুশদী বিরোধী আন্দোলন,কাদিয়ানী দের অমুসলিম ঘোষনার দাবি আন্দোলন,
তসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলন,ফতোয়া বিরোধী রায়ের আন্দোলন,নাম্তিক মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন সহ ইসলাম ও দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

★গ্রেফতার :
২০০১ সালে রংপুর ৪ দলীয় জোটের মহাসমাবেশ থেকে ফেরার পথে শায়খুল হাদীস রহঃ সাহেবের সাথে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, এ আর এম আব্দুল মতিন, মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী সহ নেতৃবৃন্দসহ গ্রেফতার হন। এবং একই দিনে ঢাকা থেকে মুফতি আমিনী রহঃ , তৎকালীন ছাত্র মজলিসের ঢাকা মহানগর সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল সহ নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হন।
তারপর সকল কারাবন্দী উলামায়ে কেরামকে ঢাকা কারাগারে একসাথে করার পর, মুফতি আমিনী রহঃ, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, মো: আব্দুল জলিল প্রমুখ নেতৃবৃন্দকে রংপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
পরিবর্তিতে আরো একবার মিথ্যা মামলায় দিয়ে গ্রেফতার করা হয় এই মজলুম জননেতা মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনকে ।

★ আল্লামা আহমদ শফী রহঃ থেকে
খেলাফত লাভ :

২০১৩ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ইসলাহী তায়াল্লুকের এক পর্যায়ে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহঃ) এর সাথে রমযান মাসে এতেকাফ করেন। এবং পরবর্তীতে শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী (রহঃ) মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনকে খেলাফত প্রদান করেন।
হযরতের বিশেষ নির্দেশে ইসলাহী লাইনের মেহনত অব্যহত রেখেছেন। বিভিন্ন জেলায় জেলায় ইসলাহী মেহনত করে চলেছেন।
মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন যাদেরকে খেলাফত দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হযরত মাওলানা সালেহ নজীব আল আইয়ুবী (সিলেট)হযরত মাওলানা মুফতী ওযায়ের আমীন (ঢাকা) উল্লেখযোগ্য

★ হেফাজতে ইসলামে ভূমিকাঃ-

২০১৩ সালে যখন সারাদেশে নাস্তিক মুরতাদ, বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় তখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের আন্দোলনে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী (রহঃ), ও হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা কালীন মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহঃ) এবং হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগরের আমীর
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রহঃ) এর নির্দেশে সম্মুখ সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।

মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ২০০৫ সাল থেকে অদ্যবধি খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমানে সংগঠনের অন্যতম নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগঠনকে মঞ্জিলে মাকসাদে পৌঁছাতে এবং ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে নিরলসভাবে সফর করে চলছেন।

আল্লাহ তায়ালা হযরতের সকল দ্বীনি কর্মকান্ড গুলি জান্নাতের বিনিময় কবুল করুন, আমিন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন