নাসিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রার্থীদের

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৫, জানুয়ারি, ২০২২, শনিবার
<strong>নাসিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রার্থীদের</strong>

বিজয় বাংলা অনলাইন | নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হাসবেন শেষ হাসি, আইভী না তৈমূর? নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে এমন প্রশ্ন ভোটারদের মুখে মুখে। বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নিতে সবারই প্রাণান্তকর চেষ্টা। সুষ্ঠু ভোট হলে তৈমূর মেয়র হবেন। আবার কেউ বলছেন, জয়ের মালাটা আইভীর গলাতেই যাবে। গতকাল শুক্রবার শেষ দিনের প্রচারণায় দুইজনের পক্ষেই গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তবে দুইজনেরই রয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। আইভী বলছেন, তার ঘরে বাইরে সবাই তার বিরুদ্ধে এক। তবুও তার বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ জনতা তার সাথে আছে। অপর দিকে তৈমূর বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণনা সঠিকভাবে হলে তার বিজয় হবে। জনতা তাকে গ্রহণ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

এ দিকে আইভীকে জেতাতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। তাদের অনেক কর্মকাণ্ডে ভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসকের সাথে নানকসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বৈঠক নিয়ে অনেকে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও নানক বলেছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তারা কাজ করছেন। ডিসির সাথে যে বৈঠক করছেন সেটা কোনো গোপন বৈঠক না।
গতকাল শুক্রবার মেয়রপ্রার্থী আইভী বলেছেন, কেন্দ্র কী করছে কেন্দ্রই বলতে পারবে। আমার প্রতিটা নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ নির্বাচনও চ্যালেঞ্জবিহীন নয়। কেন্দ্রের লোকজন কাউকে প্রভাবিত করছে না। তারা হয়তো অন্য কোনো কারণে এখানে পর্যবেক্ষণে আছেন, যাতে এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।

ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ভোটের মাঠে তারা কখনো নেগেটিভ কিছু বলেননি। আমি সহিংসতার বিপক্ষে। সহিংসতা আমার তরফ থেকে মনে হয় না হবে। কারণ আমার সে রকম কোনো বাহিনী নেই আর আমি কোনদিন সহিংসতা করিও নাই। সহিংসতা হলে আমার ক্ষতি হবে।

তিনি আরো বলেন, আমার ভোটাররা আসতে পারবে না- একটি পক্ষ এমনটিই চাচ্ছে। আমার নির্বাচনী জায়গাটি সবচেয়ে জমজমাট। সেখানে হয়তো কেউ সহিংসতা করে ভোটারদের আসতে বাধা দিতে পারে। আমি প্রশাসনকে বলেছি ভোটের দিন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। আমার নারী ভোটাররা যাতে আসতে পারে। কারণ আমি জানি এ ভোটগুলো আমার। আমার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে যদি কেউ সহিংসতা করে তাহলে প্রশাসনকে বলব ব্যবস্থা নিতে।

তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, আইভীকে পরাজিত করতে অনেকগুলো পক্ষ এক হয়ে গেছে। তারা ঘরেরও হতে পারে বাইরেরও হতে পারে। সবাই একসাথে মিলে গেছে, কিভাবে আমাকে পরাজিত করা যায় কিভাবে ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঝামেলা করা যায়। যারা সহিংসতা করে তারা একসময় এক হয়ে যায়। এখানে আপন আর পর কী। এখানে নির্বাচনটা হচ্ছে আইভী বনাম অনেকে। সে ক্ষেত্রে অনেক পক্ষই এক হতে পারে। বারবার বলছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সতর্ক থাকে। সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।

আইভী বলেন, আমি খুব শক্তিশালী পার্সোনালিটির মানুষ। আমার সাথে তৃণমূল পর্যায় থেকে সবাই আছে। আমাকে দুর্বল করা এত সহজ নয়। আমি কোন কিছুতে দুর্বল হবো না, আমাকে কিছুই প্রভাবিত করতে পারবে না।

নির্বাচনে কেউ যাতে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমি সহিংসতার বিপক্ষে। নারী ও তরুণ ভোটাররা যাতে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল নির্বাচনী শোডাউন শেষে তৈমূর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত সিসি টিভি বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে তাদের ভোট চুরির উদ্দেশ্য আছে।

তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিএনপির বিজয় র্যালিতে আমি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে যাইনি। অথচ সরকারি দলের প্রার্থী এমপিদের নিয়ে সমাবেশ করেছে। তারা আমাকে আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগ দিয়েছি। তোরণ নির্মাণ ও সড়ক দখল করে মার্কা স্থাপন করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল তারা তোরণ ভেঙে দিবে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ ছাড়াও অন্যান্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারেও বারবার অবহিত করা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণের মনের ধারণা নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ তারা সেই পথেই হাঁটছেন। তারপরেও আমি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই।

তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেল চেক করলেই দেখতে পারবেন বিভিন্ন জেলার সরকারদলীয় নেতারা এখানে অবস্থান করছেন। সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলোকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনানুসারে সরকারি কোনো গাড়ি কোনো ডাকবাংলো ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই আমাদের সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পলিশ সুপারের সাথে আলাপ করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সাথে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আইনগনভাবে আমি অন্যায় মনে করি। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে আমরা আশা

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 42
    Shares