বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিদায় দেখতে চায় : মির্জা ফখরুল

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৬, নভেম্বর, ২০২২, শনিবার
<strong>বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিদায় দেখতে চায়  :  মির্জা ফখরুল</strong>

কুমিল্লার গণসমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। – ছবি : সংগৃহীত

বিজয় বাংলা অনলাইন | বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারি দলের উদ্দেশে বলেছেন, এখন বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিদায় দেখতে চায়। সময় থাকতে কেটে পড়ুন। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের সব অর্জন ধ্বংস করে দিয়েছে, নষ্ট করে দিয়েছে সব স্বপ্ন। যেদিকে তাকাবেন খালি চুরি আর চুরি। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের বিদায় দেখতে চায়।

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব গণসমাবেশের মঞ্চে উঠেই উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘গোমতী নাকি কুমিল্লা চান’? এতে উপস্থিত জনতা কুমিল্লা বলে জবাব দেন।

এরপর বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ যেখানে আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন, এই সমাবেশের জন্যই নয়ন খুন হয়েছে। নয়নের বুকে জ্বলা আগুন এই সমাবেশ। সরকার ভাতে মারছে, গুলিতে মারছে। আপনারা দেখেছেন, তারা (এমপি-মন্ত্রীরা) দিন দিন কী মোটা হচ্ছে। ১০ তলা বাড়ি থেকে ২০ তলা বাড়ি হচ্ছে তাদের। কিন্তু দেশের কী হচ্ছে?

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৮ সালের রাতের ভোট এবার কি আপনারা চান? না চাইলে ১০ ডিসেম্বর আসুন। আমরা নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাচ্ছি না। নির্বাচন হবে কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের হাতে। আপনার মন্ত্রীরা মন্ত্রী থাকবে, আপনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন- আর নির্বাচন দেবেন, তামাশা পেয়েছেন?’

তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ বলে আগে জানলে ভাঙা নৌকায় উঠতাম না। মানুষ নৌকায় উঠে ভুলের মাশুল দিচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ সব কিছুর আকাশ ছোঁয়া দাম। এই সরকার মানুষের স্বপ্ন লুটে খেয়েছে। এ জন্য বলি, মানুষ না খেতে পেরে রাস্তায় নেমেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীন হতে ৭১ সনে একবার যুদ্ধ করেছি। এখন আবার যুদ্ধ করতে হচ্ছে ভোটের অধিকারের জন্য। আমরা আরেকটা ৭১ আনবো। এবারের যুদ্ধ হবে ভোট চোর, কম্বল চোরের বিরুদ্ধে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অনেক মন্ত্রীরা দেখি, কী কী জানি বলে। আপনারা বলেন, আওয়ামী লীগ নির্দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করলে কী জামানত থাকবে? শোনেন, এই সাধারণ মানুষকে নিয়ে যেমন খুশি তেমন আর করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘শুনেছি, ১৫ দিনে নাকি রাজশাহীতে ৩৫ মামলা হয়েছে। সব গায়েবি মামলা। ১০ ডিসেম্বরের আগে এমন বহু গায়েবি মামলা হবে। এদের (সরকারের) চামড়া গণ্ডারের মতো। সব করে তারা দোষ দেয় বিএনপির। তারা বলে, আমরা নাকি অগ্নিসন্ত্রাস করব। শুনুন, অগ্নিসন্ত্রাস করতে গিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ধরা খেয়েছে বিএনপি নয়।’

ফখরুল বলেন, ‘১০ বছরে এই লুটেরা সরকার খেয়েছে ৮৬ লাখ কোটি টাকা। আর এক বছরে বিদ্যুতের নামে খেয়েছে ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এগুলো কে খেয়েছে? বিএনপি? শোনেন পত্রিকায় দেখলাম, গণসমাবেশে সাধারণ মানুষ যাচ্ছে। আচ্ছা এটা কী অস্বাভাবিক কিছু? মানুষ এখন নিরুপায়। তারা নাকি আমাদের পূর্বাচলে পাঠাবে, তারপর আরেকটু এগিয়ে এলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আমরা বলি, আরেকটু এগিয়ে আসুন। তা ছাড়া উপায় নাই। এ গিয়ে আসতেই হবে। ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ পল্টনেই হবে। সব ফয়সালা রাজপথে হবে। গুম, খুন হত্যা, নির্যাতন সব কিছুর বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। এ দেশের মানুষ করবে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এ সরকার রিজার্ভ চিবিয়ে খেয়েছে। আগামী তিন মাসের আমদানি-রফতানির জন্য ডলার নেই। এত রিজার্ভ কোথায় গেল?

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ মানুষের কোনো আয় নেই। অথচ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আয় আছে। চাঁদাবাজি, দলীয়করণ করে তারা আয় করছেন, লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে শূন্য করে ফেলছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে দুবার নির্বাচন করেছে। ২০১৪ সালে কেউ ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৮ সালেতো আগের রাতে ভোট শেষ হয়ে গেছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিন উর রশিদ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা। এতে আরো বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহেদা রফিক, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন, শিল্প সম্পাদক আবুল কালাম, খাদেম মাহমুদ স্বপন, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক জিয়া উদ্দিন নসু, লায়ন হারুন-উর রশিদ, রাসেদা বেগম হীরা, মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি সাইদুল হক শহীদ, আবদুল খালেক, তাকদির হোসাইন জসিম, অ্যাডভোকেট রকিব শিকদার, সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, ড.খন্দকার মারুফ হোসাইন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আহম্মেদ, জালাল উদ্দিন, এফ এম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কাজী রফিক, শাহ মোহাম্মদ সেলিম, একরামুল হক মিন্টু, সাবেরা আলাউদ্দিন,জিয়া উদ্দিন জিয়া, মোশারফ হোসাইন, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী জসিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় এস এম জিলানী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, মৎসজীবী দলের সভাপতি এম হেলাল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্চাসেবক দলের নেতা ইয়াছিন আলী, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সজিবুল ইসলাম, যুবদল ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আকরাম উদ্দিন মিন্টু, জাসাসের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হারুন জামাল, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মেছবাহুল হক, চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ সেলিম, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, জিল্লুর রহমান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কাইয়ুমুল হক রিংক্কু, যুবদলের মহানগরী আহ্বায়ক মনজুরুল আলম, জেলা শ্রমিকদলের নেতা আবদুর রহমান, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্চাসেবক দলের নেতা নজরুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মজিবুর রহমান পারভেজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রিয়াজ উদ্দিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাজিবুর রহমান নিশি, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিবলু, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহম্মেদ, কৃষক দলের কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক মোস্তফা জামান, কৃষক দলের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক ইকরাম হোসনে তাজ, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক সাকিনা বেগম, তাঁতি দলের দক্ষিণ জেলা নেতা জি এস কামাল, শ্রমিক দলের মহানগর নেতা নুরুল ইসলাম, জাসাস কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম, জাসাস কুমিল্লা দক্ষিণের সদস্য সচিব ইমরান হোসাইন, মহানগর মৎসজীবী দলের আহ্বায়ক আমির হোসাইন, মৎসজীবী দলের দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক সাজ্জাদ জামিল লিটন, মহানগর তাঁতি দলের আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মাহবুব আলম।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 4
    Shares