নারীবাদ এবং ফুড ইন্ডাস্ট্রি

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৩, এপ্রিল, ২০২২, শনিবার
<strong>নারীবাদ এবং ফুড ইন্ডাস্ট্রি</strong>

শাহেদ হাসানঃ ৬০ এর দশক পৃথিবীতে এক বৃহৎ পরিবর্তন আনে। এ সময় থেকেই মূলত নারীরা নিজের ঘরের চেয়ে বাইরের জগতকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া শুরু করে। অর্থাৎ, সাংসারিক জীবনের পরিবর্তে চাকুরিজীবনকে প্রাধান্যপ্রদান। যা ছিল ফেমিনিজমের দ্বিতীয় ওয়েভের ফল।

এতে ক্যাপিটালিজম দুটো দিক দিয়ে উপকৃত হয়। প্রথমটা হচ্ছে, নারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম মজুরিতে শ্রম আদায়। তবে এ আলোচনায় আমার মূল বিবেচ্য দ্বিতীয় কারণটা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার কারণে প্রসেসড ফুডের ওপর চাপ।

নারীরা যখন ঘরে থাকতেন তখন মৌলিক খাদ্যদ্রব্য দিয়ে নিজেরাই ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করতেন। ফলে, একদিকে গৃহকর্তার বিশাল অর্থ যেমন বেঁচে যেত, পরিবারের সকল সদস্যের স্বাস্থ্যও ভালো থাকত।

কিন্তু নারীদের ঘরের বাইরে কাজ শুরু করার কারণে ঘরে এসে কাজ করার শক্তি ও এনার্জি অনেকেরই থাকত না। তা ছাড়া যেহেতু এখন বাড়তি উপার্জনও হচ্ছে, তাই তারা কষ্ট করে স্বাস্থ্যকর খাবার বানানোর বদলে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে রেস্টুরেন্টের খাবার বা প্রসেসড ফুডের ওপর। হয়তো এ কারণেই ৬০ এর দশকেই ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে ফুড ইন্ডাস্ট্রি। প্রিংগলস, পপ-টার্টস, ডোরিটোস, স্টারবার্স্ট, চিপস, গ্যাটোরেড, স্প্রাইট, রাফেলস এর মতো প্রসেসড ফুড সুপারমার্কেটের ফুড চেইনে ঢুকতে শুরু করে স্রোতের মতো। আর আজ, এ গ্লোবাল ফুড মার্কেট কেবল ২০২১ সালেই কামিয়েছে ৮.২১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা পুরো বিশ্বের জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ। সংখ্যাটা এত বিশাল যে কল্পনা করাও কঠিন। ১৯৫০ সালে সুপারমার্কেটে বাসাবাড়ির ৩৫ শতাংশ খাবার সাপ্লাই দেওয়া হতো, যা ১৯৬০ সালে পৌঁছে যায় ৭০ শতাংশে। ১৯৫০ এ ফুড স্টোরের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার, যা ১৯৬০ এ পৌঁছায় ৩৩ হাজারে।

সুপারমার্কেটে যে ধরনের প্রসেসড ফুড বিক্রি করা হয় তার মধ্যে আছে পনির, টিনজাত মাছ ও টিনজাত মটরশুটি। আলট্রা প্রসেসড ফুডের মধ্যে আছে ফ্রোজেন পিজা, ফ্রোজেন পরোটা, সোডা, ফাস্ট ফুড, নোনতা স্ন্যাকস, টিনজাত স্যুপ ও বেশিরভাগ ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল। প্রসেসড ফুডের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং ফুড ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে মানুষকে তাদের পণ্যে আটকে রাখে তা জানার জন্য পুলিতজার বিজয়ী সাংবাদিক মাইকেল মসের “Salt, Sugar and Fat” গ্রন্থটি অধ্যয়ন করতে পারেন।

সমস্যা দুটি। এক, পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে ফুড করপোরেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত খাবারে অধিক নির্ভরশীল হওয়ার জন্য। দুই, প্রসেসড ফুড খেয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজানো হচ্ছে, বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।
এ দুষ্টুচক্র থেকে ক্ষণিকেই বের হওয়া সম্ভব না। এ সমস্যার সমাধান কি? এ আলোচনা থেকেই কিছুটা বুঝে আসা উচিত, বাকিটা অভিজ্ঞ পাঠকের বিবেচনাধীন।

বিজয় বাংলা/এনএ/২৩/৪/২২

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন