উত্তর কোরিয়ায় কঠোর লকডাউন জারি

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১২, মে, ২০২২, বৃহস্পতিবার
উত্তর কোরিয়ায়  কঠোর লকডাউন জারি

উত্তর কোরিয়ায় প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাস শনাক্ত হবার পরে দেশটিতে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে রাজধানী পিয়ংইয়ং-এ করোনা ভাইরাসের অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে। তবে কতজন আক্রান্ত হয়েছে সে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। বিভিন্ন দেশ যখন তাদের ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে চেয়েছিল, তখন সেটি গ্রহণ করেনি দেশটি।

এর পরিবর্তে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে উত্তর কোরিয়া। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশটিতে অনেক আগে থেকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কর্মসূচি গ্রহণ না করায় দেশটির আড়াই কোটি মানুষ বেশ ঝুঁকিতে আছে।

গত বছর বিভিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়াকে করোনা ভাইরাসের টিকা সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়া বলছে দেশটির নেতা কিম জং-আন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নির্মূল করার করার জন্য বদ্ধপরিকর। এ বিষয়টিকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

করোনা ভাইরাসের নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করার জন্য যে বৈঠক ডাকা হয়েছে সেখানে কিম জং-আনকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। এই প্রথমবারের মতো তাকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেল।

তবে বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরা যখন তাদের মাস্ক লাগান তখন মি. কিম তার মাস্কটি খুলে ফেলেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তর কোরিয়া সর্বপ্রথম তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল।

এছাড়া বিদেশ থেকে কোন খাদ্য সামগ্রী উত্তর কোরিয়ায় ঢোকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ফলে দেশটি খাদ্য ঘাটতিতে পড়ে এবং অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়।

উত্তর কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যম বলছে চারদিন আগে দেশটিতে অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হবার প্রথম খবর পাওয়া যায়। এর ফলে দেশটিতে এখন স্থানীয় ভিত্তিতে কঠোর লকডাউন এবং কর্মক্ষেত্রে জড়ো হবার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সোল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জ্যঁ ম্যাকেঞ্জি বলেন, একদিকে দেশটিতে কোন ভ্যাকসিন কার্যক্রম নেই, অন্যদিকে ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামনে কোন বিকল্প নেই।

তাছাড়া জনগণকে ব্যাপকভাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার সক্ষমতাও নেই উত্তর কোরিয়ার।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, তারপরেও এর অর্থ এই নয় যে উত্তর কোরিয়া বিদেশী কোন দেশের কাছ থেকে সহায়তা নিতে আগ্রহী।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন