দারিদ্র বিমোচনে এনজিওদের থেকে কওমি মাদ্রাসার সফলতা বেশি

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৬, মে, ২০২২, সোমবার
<strong>দারিদ্র বিমোচনে এনজিওদের থেকে কওমি মাদ্রাসার সফলতা বেশি</strong>

মারুফ মল্লিকঃ দেশ থেকে গরীবি হটাতে এনজিও মডেল নিয়া কাজ করছিলাম গত কয়েকদিন ধরে। গেল সপ্তাহে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের এ নিয়া পড়ালাম। বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত্ব ও উদাহরণ দিয়ে বুঝাইলাম উন্নয়ন ধারনায় এনজিও মডেল আসলে কাজ করে না। এটা ব্যর্থ হইছে। তো গত কয়েকদিন ধরে এসব নিয়া ঘাটাঘাটি করতে করতে একটা চমতকার তথ্য পাইলাম। পাইলাম বলতে একজনের কাছ থেকে ধারণা পেয়ে একটু খোঁজ নিলাম। বিষয়টা হচ্ছে, দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এনজিওর থেকে দেশে কওমি মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অধিক ও বেশি কার্যকর। শিক্ষাদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচনে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিজস্ব একটা মডেল আছে। এই মডেল নিয়া খুব বেশি আলাপ আলোচনা হয়নি। মাদ্রাসাগুলোকে অনেকেই সেকেলে, ধর্মব্যবসায়ীদের আস্তানা, জঙ্গী তৈরির কারখানা বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু পুরো কাঠামো এবং সমাজে এর প্রভাব নিয়ে ওইভাবে কথাবার্তা হয় না।

সামাজিক অর্থায়নের সফল উদাহরণ হচ্ছে কওমী মাদ্রাসা। কওমী মাদ্রসাগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি দেখভাল করে। প্রথমত, দেশের প্রান্তিক গোষ্ঠীর সন্তানদের এরা বিনামুল্যে শিক্ষাসহ খাবার প্রদান করে। শিশু হিসাবে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হাফেজ, আলেম, মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দিস হিসাবে বের হয়ে সারা দেশের মাদ্রাসাগুলো শিক্ষকতা শুরু করে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে। এবং এই শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরিই সামাজিক দানের উপর নির্ভরশীল। মুলত যাকাত, ফেতরা, কোরবানীর পশুর চামড়াসহ বিভিন্ন জনের দান ও সহায়তায় এসব মাদ্রাসা চলে। এটাকে সামাজিক দান বলা হলেও মুলত এটা সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট। সরকার বা বিদেশ থেকে কিছু কিছু অনুদান পায়। কিন্তু পুরো ব্যবস্থার জন্য এটা নিতান্তই নগন্য।

কিছু কিছু মাদ্রাসায় একই সঙ্গে প্রি স্কুলিং, স্কুল এবং আফটার স্কুল কেয়ার বা স্কুল ও ডে কেয়ারের সুবিধা আছে। ফলে অভিভাবকরা অনেকেই শিশুকে মাদ্রাসায় দিয়ে কাজে যেতে পারেন। বিশেষ করে মহিলা শ্রমিকদের এটা বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করেছে। বাচ্চা লালন পালনের আলাদা অর্থ কিংবা শ্রম লাগে না।

এদের ব্যবস্থাপনা সরকারি স্কুলের থেকে ভালো। একটা উদাহরণ দেই। সরকার স্কুল ফিডমিল চালু করার জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করছে। ২০১৩ সালে শুরু হলেও ৯ বছর পরও সরকার সব স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু করতে পারে নাই। এই সময় তারা বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পাইছে। আমাদের আমলারা বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন ফিডমিল সরাসরি দেখে শিক্ষা লাভের জন্য। কিন্তু কাজ হয় নাই। বর্তমানে সরকার স্কুল ফিডমিল চালুর জন্য ২৫০০ হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পে খিচুরির প্রস্তাব নিয়ে বেশ হৈ চৈ হইছে। এই বছরের কোনো এক সময় এই প্রকল্প শুরু হতে পারে।

আর বিপরীতে কওমী মাদ্রাসার দিকে নজর দেন একটু। দেখবেন এই মাদ্রাসাগুলোতে কমবেশি ১৫ লাখ শিক্ষার্থী আছে। এদের বেশির ভাগই আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনবেলাই এরা মাদ্রাসায় খাওয়া দাওয়া করে। তাহলে দেখা যাচ্ছে ফিড মিলের মডেল আমাদের হাতের সামনেই আছে। আর সরকার এত এত দক্ষজনবল দিয়ে কর্মসূচি মাঠে নাইতে হিমশিম খাইতেছে।

চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু কওমী মাদ্রাসা শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগ শূন্য। সরকার ও বেসরকারি এনজিওর শূন্য বিনিয়োগে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের এমন এন্ড টু এন্ড মডেল বিরল। এবং এই মডেল খুবই টেকসই। সামাজিক উন্নয়নের একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে কওমী মাদ্রাসাগুলা। কওমি মাদ্রাসার নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে যুক্ত করা গেলে এ থেকে আরো সুফল পাওয়া যাবে।

বিজয় বাংলা/এনএ/১৬/৫/২২

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 8
    Shares