বারকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট দেশটির সেনাদের হাতে আটক

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৪, জানুয়ারি, ২০২২, সোমবার
বারকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট দেশটির সেনাদের হাতে আটক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বারকিনা ফাসোতে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহের একদিন পর দেশটির প্রেসিডেন্ট রক কাবোরেকে বিদ্রোহী সৈন্যরা আটক করে রেখেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, রাজধানী ওয়াগাডুগুর একটি ব্যারাকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় আরো কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন।
গতকাল রাতে মি. কাবোরের বাসভবনে গোলাগুলি হয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে সৈন্যরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের অফিস ঘিরে রেখেছে।

চিত্র এখনও অস্পষ্ট
বারকিনা ফাসোতে ঠিক কী হচ্ছে সেই চিত্রটা খুব একটা পরিষ্কার নয়। ইন্টারনেটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর পরিস্থিতি অনেকটাই অস্পষ্ট।

তবে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে বিদ্রোহী সৈন্যরা বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রেসিডেন্ট রক কাবোরেকে সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে আটক করে রেখেছে। এর আগে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও সেনাবাহিনীর ব্যারাকে প্রচুর গোলাগুলি হয়। কিন্তু রবিবার বারকিনা ফাসোর সরকার সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থান কিম্বা প্রেসিডেন্টকেব গৃহবন্দী করে রাখার খবর অস্বীকার করে।

রাজধানী ওয়াগাডুগু থেকে যেসব ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট কাবোরে যেসব সাঁজোয়া গাড়ি ব্যবহার করেন তার অনেকগুলো রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কোনো গাড়ি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। রাজধানী থেকে বিবিসির রিপোর্টার সাইমন গঙ্গো বলছেন, শহরের পরিবেশ আপাতত শান্ত। সৈন্যরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সদর দপ্তরের ঘিরে রেখেছে এবং আজ সোমবার সেখানে লাইভ অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।

সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল
এর আগে রবিবার বিদ্রোহী সৈন্যদের সমর্থন জানিয়ে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অনেকে ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়গুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার পরেই রাতে সেখানে কারফিউ জারি করা হয়।

সংবাদদাতারা বলছেন, গত রাতের পর থেকে প্রেসিডেন্ট কাবোরের পক্ষ থেকে কিছু শোনা যায়নি। কিন্তু তার আগে তিনি আফ্রিকা কাপ অফ ন্যাশন্সের একটি ম্যাচে বারকিনা ফাসোর বিজয়ের পর জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে সোশাল মিডিয়াতে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিক্ষোভে উত্তাল পুরো সুদান
সংবাদদাতা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই বারকিনা ফাসোর সরকারের ওপর সেনাবাহিনীর কিছু অংশ এবং জনগণের দিক থেকে চাপ তৈরি হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ যে ইসলামপন্থী জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে কাবোরের সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য তারা সামরিক বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করারও দাবি জানিয়ে আসছিল।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 3
    Shares