মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী রহ:এর ইন্তেকালে পুটিয়া হারিয়েছে পরিচালক ও দেশের ওলামা গণ হারিয়েছে মুরুব্বি

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২২, জুন, ২০২২, বুধবার
মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী রহ:এর ইন্তেকালে পুটিয়া হারিয়েছে পরিচালক ও  দেশের ওলামা গণ হারিয়েছে মুরুব্বি

গাজী ইসমাঈল ভাঁওয়ারী, বিজয় বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি :আল্লামা শাহ মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী রহ:। ছিলেন একজন বাংলাদেশী আলেম, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় লেখক, বক্তা, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।

মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী রহ:এর ইন্তেকালে পুটিয়া হারিয়েছে পরিচালক ও দেশের ওলামা গণ হিরয়েছে মুরুব্বি

তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক উপদেষ্টা, আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক, কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের মহাসচিব, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের শরীয়াহ সুপারভাইজারি কমিটির সভাপতি, ইসলামী সম্মেলন সংস্থা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ তাহফিজুল কুরআন সংস্থার সভাপতি এবং জামিয়া পটিয়ার মুখপাত্র মাসিক আত তাওহীদের প্রধান সম্পাদক। ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি প্রদানের নিমিত্তে আল হাইআতুল উলয়া গঠিত হলে তিনি এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

জন্ম ও বংশ
আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী রহ: ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার রাজঘাটা (তৎকালীন সাতকানিয়ার অন্তর্গত) গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল গণী বুখারী। তার পরদাদা সৈয়দ আহমদ বুখারী উজবেকিস্তানের বোখারার বাসিন্দা ছিলেন। বৈরী পরিবেশে তিনি চীন-ভারত হয়ে ইয়াঙ্গুনে হিজরত করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশে বসতি স্থাপন করেন।

শিক্ষাজীবন
তিনি নিজ গ্রামের রাজঘাটা হোসাইনিয়া আজিজুল উলুম মাদরাসায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তারপর আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় ভর্তি হয়ে ১৯৬৪ সালে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেন। ১৯৬৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বাংলা সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগে অধ্যয়ন করেন। তিনি টাঙ্গাইল আলিয়া মাদরাসা থেকে আলিম ও কামিল, গোপালপুর মাদরাসা থেকে ফাজিল ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি টাঙ্গাইল কাগমারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। পাশাপাশি তিনি লাহোর ডন হোমিওপ্যাথিক কলেজে বায়োক্যামিকের ওপর ২ বছর মেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন
শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি কর্মজীবনের সূচনা করেন। ১৯৬৭ — ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি টাঙ্গাইল দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার আরবি প্রভাষক ছিলেন। এরপর তিনি সাতকানিয়া মাহমুদুল উলুম আলিয়া মাদরাসায় যোগদান করেন। ১৯৭২ সালে তিনি পুনরায় টাঙ্গাইল দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসায় চলে যান। ১৯৭২ — ১৯৮২ পর্যন্ত সেখানে মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় চলে আসেন।

২০০৩ — ২০০৮ পর্যন্ত জামিয়ার সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পর ২০০৮ সালে আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক মনোনীত হন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি মহাপরিচালক এর পদে থেকে নিজের প্রতিষ্ঠান কে সফল ভাবে পরিচালনা করেন। তিনি চার চেলে ও ৩ মেয়ে ও নাতি নাতনী ও অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী বক্ত বিন্দু রেখে গেছেন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন