ব্লাড প্রেশার কমাবে শীতকালীন সবজি ফুলকপি

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৪, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার
<strong>ব্লাড প্রেশার কমাবে শীতকালীন সবজি ফুলকপি</strong>

প্রকৃতিতে শীতের আমেজ। সেই সাথে বাজারেও। বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। কিছুদিন পরে পুরো বাজার সয়লাব হয়ে যাবে শীতকালীন নানাধরণের সবজিতে।

শীতকালীন এইসকল সবজির মধ্যে অন্যতম ফুলকপি। স্বাদে যেমন অনন্য তেমনি শরীরের জন্য অনেক উপকারী এই ফুলকপি। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজি।

হেলথ ডটকমের এক প্রতিবেদনে ফুলকপির স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। ফুলকপি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজিগুলোর একটি যা ক্রুসিফেরি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এতে পানির পরিমাণ থাকে ৮৫% এবং খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে। কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্য ফাইটোকেমিক্যাল ও থাকে। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এই বহুমুখী গুণ সম্পন্ন সবজিটি কাঁচা, সেদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়।

চলুন জেনে নিই ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে।

ব্লাড প্রেশার কমাতে সাহায্য করে

ফুলকপিতে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন থাকে যা ব্লাড প্রেশারের উন্নতিতে সাহায্য করে। গবেষণা মতে, সালফোরাফেন ডিএনএ এর মিথাইলেশনের সাথে সম্পর্কিত যা কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং জিনের সঠিক প্রকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, বিশেষ করে ধমনীর ভেতরের প্রাচীরের। ফুলকপির সাথে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ে ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

মস্তিষ্ক ভালো রাখে

ফুলকপিতে আরেকটি উপকারী যৌগ কোলাইন থাকে। কোলাইন একটি বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের উন্নয়নে সাহায্য করে। প্রেগনেন্সির সময়ে ফুলকপি গ্রহণ করলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। জ্ঞানীয় কাজের, শিক্ষার এবং স্মৃতির উন্নয়নে সাহায্য করে কোলাইন।

শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে

ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীর পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে গ্লুকোসাইনোলেটস থাকে যা এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং ডিটক্স হতে সাহায্য করে।

প্রদাহ কমায়

ফুলকপিতে ইন্ডোল ৩ কার্বিনোল বা I৩সি থাকে যা একটি অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি শক্তিশালী ইনফ্লামেটরি রিঅ্যাকশন প্রতিরোধ করে।

হজমের উন্নতি ঘটায়

যেহেতু ফুলকপি ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেহেতু এটি হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ডস হেলদিয়েস্ট ফুডস এর মতে, ফুলকপি পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে এবং পাকস্থলীর প্রাচীরে এর আবদ্ধ হওয়াকে প্রতিহত করে।

চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী

কম ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চমাত্রার আঁশসমৃদ্ধ ফুলকপি চুল ভালো রাখে। ত্বকের সংক্রমণও প্রতিরোধ করে।

রোগ প্রতিরোধ করে

ফুলকপিতে আছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’, যা এ সময়ের সর্দি, ঠান্ডা, কাশি জ্বর ভাব, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গা-ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফুলকপির আরও সব প্রয়োজনীয় উপাদান রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।

বিজয় বাংলা/এনএ/২৪/১২/২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 12
    Shares